Showing posts with label ঈমান. Show all posts
Showing posts with label ঈমান. Show all posts
Friday, March 21, 2008
ঈমান কেন প্রয়োজনীয়?
পরম করুনাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
ঈমান আনা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? বর্তমানে অনেকেই বলে যে, এই সব ধর্ম বা স্রষ্টায় বিশ্বাস এর কোন প্রয়োজন নেই। আমরা ভাল কাজ করলেই তো হয়। তারা নতুন এক ধর্মের কথা বলে যার নাম হল মানবধর্ম। মানবধর্ম কি? মানুষ হল সবকিছুর উপরে। Ethics এর এক ক্লাশে বিভিন্ন মনীষীর দেয়া Ethics এর সংজ্ঞা পড়ানো হচ্ছিল। এক মনীষীর মতে, মানুষের মূল্য হচ্ছে পরম। মানুষের উপকারে আসে এরকম সব কাজই হচ্ছে নৈতিক কাজ। খুবি চমৎকার। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, এ ধরনের তত্ত্ব জেনেও কারো চরিত্রের কোন পরিবর্তন হচ্ছে না। Ethics এর ক্লাশ করে একজনের চরিত্র বদলে গেছে এরকম মানুষ আমি পাই নি। একেবারে গোড়াতে আমাদের মৌলিক কিছু সমস্যার সমাধান না করা পর্যন্ত আমাদের চরিত্র বদলাবে না। একজন মানুষের জীবনের লক্ষ্য কি তার উপর নির্ভর করে তার নীতি কিভাবে নির্ধারিত হবে। কাজেই আমাদের জীবনের লক্ষ্যকে সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে হবে। জীবনের লক্ষ্যকে সঠিকভাবে নির্ধারণ করাটাই হল ঈমান আনা।
ঈমান মানে কি শুধু বিশ্বাস? আমার কাছে তা মনে হয় না। কারন শুধু বিশ্বাস করাটাই যদি ঈমান হয়, তাহলে পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষই মুমিন। কিন্তু মুমিন হওয়া কি এত সহজ? একবার কিছু সাহাবী ইসলামে প্রবেশ করে নিজেদের মুমিন বলছিলেন। তখন তাদেরকে বলা হল যে, তোমরা নিজেদেরকে মুমিন বল না, বল যে তোমরা ইসলামে প্রবেশ করেছ। আরো কিছু উদাহরন দেখা যাক। ফিরআউন কি মুমিন? ফিরআউন কিন্তু আল্লাহকে মনে প্রাণে বিশ্বাস করত। শয়তান কি মুমিন? কোন সাধারন মানুষের শয়তানের থেকে বেশি আল্লাহর উপর বিশ্বাস নেই। তারপরও শয়তান মুমিন না। তাহলে ঈমান আনা বলতে আসলে কি বুঝায়? এ ব্যাপারে পরিষ্কার জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। আমি নিজেও এখনও এ ব্যাপারে পুরোপুরি জ্ঞান অর্জন করতে পারি নি। এখানে আমি এ পর্যন্ত যা বুঝে এসেছি তা ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করব।
একজন মানুষ যখন জন্মগ্রহণ করে, তখন তার ভিতরে ভালবাসা, দয়া, উদারতা, সদয়ভাব, সৌজন্যবোধ ইত্যাদি গুনাবলীগুলোর বীজ বপণ করা হয়ে থাকে। এ গুণগুলো প্রত্যেক মানুষের ভিতর সহজাত ভাবে থাকে। অর্থাৎ একটি শিশুর জন্ম নেওয়া মানে একটি গাছের চারা রোপিত হওয়া। এখন এই চারাটাকে বিকশিত করতে হবে। এই পৃথিবী হল সেই চারার বিকশিত হবার মাধ্যম। কোন মানুষ যত বেশি ভালবাসা, দয়া, উদারতা ইত্যাদি সদগুণগুলো অনুশীলন করবে তার সেই চারাটা তত বেশি বিকশিত হবে, সুস্থ-সবলভাবে বড় হবে। আর সে যদি তার উল্টোতা করে, অর্থাৎ অন্যায়, অত্যাচার করে তাহলে সে সেই চারাটাকে ধ্বংস করে। কুরআনে আল্লাহ বারবার বলছেন যে, তোমরা তোমাদের আত্মার জন্য ভাল কাজ পাঠাও। তিনি আরো বলছেন, তোমরা যদি অন্যায় কর, জুলুম কর তাহলে তোমরা আল্লাহ বা অন্য কারোর কোন ক্ষতি করবে না, বরং তোমরা তোমাদের নিজেদেরই ক্ষতি করবে। আল্লাহ বলছেন, তোমরা তোমাদের আত্মার প্রতি জুলুম কর না, তোমাদের আত্মাকে ধ্বংস করো না। কুরআনে আল্লাহ খুব চমৎকার একটা রূপক ব্যবহার করেছেন। সেটি হল এরকম যে, তারা যখন কোন অন্যায়-অত্যাচার, খারাপ কাজ করে, তখন তাদের আত্মার অবস্থা হয় এরকম যেন একটি টর্নেডো এসে একটি শস্যক্ষেত্রকে লন্ডভন্ড করে গেল। আরেকটি চমৎকার রূপক আছে কুরআনে। উর্বর ভূমি থেকে বিভিন্ন ধরনের শস্য বের হয়ে আসে। কিন্তু অনূর্বর ভূমি থেকে তেমন কিছুই বের হয়ে আসে না। আমাদের আত্মার অবস্থা হবে অনেকটা এরকম। কাজেই আমাদের ভিতর চমৎকার সব গুণাবলীগুলোর সুপ্ত যে প্রতিভা আছে তাকে লালন করে বিকশিত করা হচ্ছে এই পৃথিবীর জীবনের উদ্দেশ্য।
এবার একটা ব্যাপার চিন্তা করে দেখি। যে সব গুণাবলীর কথা বলা হল সেগুলোর সবচেয়ে বেশি ধারক কে? কার কাছে এই গুণগুলো সবচেয়ে বেশি আছে? কার এই গুণাবলীগুলো নিখুঁত এবং অসীম? তিনি আল্লাহ! আমরা যদি এই গুণগুলোকে বিকশিত করতে চাই তাহলে আমাদেরকে টার্গেট করতে হবে আল্লাহকে, কোন মানুষ বা শয়তান বা কোন বস্তুকে নয়। আল্লাহকে অনুসরন করতে হবে। আল্লাহ মানুষকে তার অবয়বে তৈরি করেছেন এই অর্থে যে, আমরা আল্লাহর অসীম সব গুণাবলীগুলোকে শেয়ার করতে পারব, আয়ত্ব করতে পারব। আল্লাহর এই গুণাবলীগুলোকে অর্জন করে আমরা আল্লাহর কাছাকাছি যেতে পারব। এই ক্ষমতা আমাদের ভিতরে দিয়ে দেয়া হয়েছে। আমরা আল্লাহর প্রতিনিধি। এখন আমাদের সহজাত এই প্রবৃত্তিকে আমরা মেনে নেব কি নেব না? আমরা কি আমাদেরকে গড়ে তুলব না আমাদেরকে ধ্বংস করব?
এবার ঈমান নিয়ে চিন্তা করা যাক। ঈমান এর বিপরীত হল কুফর। কাফারা করা মানে হল অবিশ্বাস করা, অস্বীকার করা, অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা ইত্যাদি। ঈমান আনা হল বিশ্বাস করা, স্বীকার করা, বিশ্বস্ততা প্রকাশ করা। আমি এটাকে এভাবে দেখি। ঈমান আনা হল আমাদের যে সহজাত প্রবৃত্তি আছে তাকে স্বীকার করা, আমাদের উপর যে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, যে আমানত দেয়া হয়েছে সেটাকে রক্ষা করার অঙ্গীকার করা, আমাদের ধ্যান-জ্ঞানকে আল্লাহমুখী করা, আল্লাহকে আমাদের জীবনের লক্ষ্য করা, আমাদের এবং আল্লাহর মাঝা সরল রাস্তা তৈরি করা, আল্লাহর দিকে ধাবিত হওয়া। আর ঈমানের বহি:প্রকাশকে আমি বলি ইবাদাত।
এবার ঈমানের প্রভাব নিয়ে চিন্তা করা যাক। একজন মানুষ যদি তার দৃষ্টিকে শুধু তার নিজের ভিতর সীমাবদ্ধ রাখে, তাহলে তার সচেতনতা, সজ্ঞানতা থাকে অনেক সীমিত। সে তখন নিজের স্বার্থ ছাড়া আর কিছুই বুঝে না। সে নিজেকে একটি সীমিত গন্ডির ভিতর আবদ্ধ করে রাখে। লোভ-লালসা, অহংকার ইত্যাদি শৃঙ্খল দ্বারা নিজেকে বেধে রাখে। তার অবস্থা হয় অনেকটা এরকম যে সে দেখেও দেখতে পারে না, শুনেও শুনতে পারে না। আল্লাহ তাদের কথা বলছেন যে, তারা বধির, বোবা এবং অন্ধ। সে এই পৃথিবীর জাকজমক দেখে প্রতারিত হবে, সে থাকে প্রচন্ডরকমের এক ধোঁকার ভিতরে। এখন কেউ যদি তার দৃষ্টিকে এই শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করে আল্লাহর দিকে নিয়ে যায় তাহলে তার সচেতনতা, সজ্ঞানতা হবে অনেক বিস্তারিত। সে তখন সবকিছু দেখার, বুঝার, শোনার চেষ্টা করবে। সে যখন আল্লাহর বিভিন্ন গুণাবলীগুলো চিন্তা করবে এবং সেগুলোকে নিজের ভিতরে গড়ে তোলার চেষ্টা করবে। তার ভালবাসা, দয়া, উদারতা, সৌজন্যবোধ তখন শুধু নিজের এবং তার আশেপাশের গুটিকয়েক মানুষ বা বস্তুর ভিতর সীমাবদ্ধ থাকবে না। তার ভালবাসা হবে সুদূর প্রসারিত। সে সবাইকে সমানভাবে ভালবাসবে, সবার প্রতি দয়া দেখাবে। শুধু তার পরিবার ও আত্মীয়দের প্রতি না, শুধু মানুষের প্রতি না, সমগ্র সৃষ্টির প্রতি তার ভালবাসা, দয়া, উদারতা ইত্যাদি প্রসারিত হবে। আল্লাহর জন্য অন্যকে ভালবাসা বলতে আমি এটাকেই বুঝি। এবার সূরা ফাতিহার প্রথম পাঁচটি আয়াতের প্রতি মনোযোগ দেয়া যাক।
পরম দয়ালু ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
১। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সৃষ্টিজগৎসমূহের রব(পালনকর্তা)।
২। তিনি পরম দয়ালু ও অসীম করুনাময়।
৩। তিনি বিচারদিবসের মালিক।
৪। আমরা শুধু তোমার ইবাদাত করি এবং তোমার কাছে সাহায্য চাই।
৫। আমাদেরকে সহজ-সরল পথে ধাবিত কর।
প্রথম ৩ আয়াতে আল্লাহর ৩ ধরনের গুণাবলীর কথা বলা হয়েছে। এই ৩ ধরনের গুণাবলী হচ্ছে প্রধান এবং এগুলো থেকে অন্যান্য গুণাবলীগুলো চলে আসে। প্রথম গুণ হল, পালনকর্তা। যে ঈমান এনেছে, সে নিজেকে পালনকর্তা হিসেবে গড়ে তুলবে। সে তার আশেপাশের মানুষ, বস্তু, পশু-পাখি, গাছপালা সবাইকে প্রতিপালন করার চেষ্টা করবে। সবাইকে সে যত্ন করবে। দ্বিতীয় গুণ হল, দয়ালু ও করুনাময়। একজন মুমিন হবে সবার প্রতি দয়ালু ও করুনাময়। তৃতীয় গুণ হল, বিচারের মালিক। একজন মুমিন বিচারের ক্ষেত্রে হবে আপোসহীন, সুবিচারের প্রতি থাকবে সে কঠোর যদিও তা তার নিকট আত্মীয়ের বিরুদ্ধে হয়। ৪র্থ আয়াত হল আমরা শুধু আল্লাহকে অনুসরন করব, আল্লাহর দিকে নিজেদের ধাবিত করব, আল্লাহকে আমাদের সামনে রাখব এবং তার কাছে সাহায্য চাব। আর ৫ম আয়াত হল আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য। উপরে গুণাবলীগুলো আমরা আল্লাহর সাহায্য-সহযোগিতা নিয়ে, আল্লাহকে অনুসরন করে অর্জন করব এবং এভাবে আমরা আল্লাহর কাছে যাওয়ার রাস্তায় নিজেকে নিয়ে যাব। কত চমৎকার এই সূরা! প্রতিদিন কমপক্ষে ১৭ বার এটিকে স্মরণ করলে আর কিছুর কি প্রয়োজন আছে?
কুরআনের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে একজন মুমিন নিজেকে এমন এক অবস্থায় নিয়ে যায় যে, সে তখন অন্যের জন্য তাই ভালবাসে যা সে নিজের জন্য ভালবাসে। নিচের ঘটনাটা খেয়াল করি।
ঘটনা: এক সাহাবী তার সঙ্গীসহ বাজারে গিয়েছেন। সে এক দোকানের সামনে গিয়ে একটা জিনিসের দাম জিজ্ঞাসা করল। দোকানদার তাকে বলল যে, জিনিসটার দাম ৫ দিরহাম। সাহাবী তখন কিছুক্ষণ চিন্তা করে বলল যে, আমাকে এটি ৭ দিরহামে দিবেন? দোকানদার বলল যে, অবশ্যই দিব, আমি তো এটাকে ৫ দিরহাম দিয়েই দিতে চাই। তখন সাহাবী আরো কিছুক্ষণ চিন্তা করে বলল যে, এটা আমাকে ৮ দিরহামে দিবেন? দোকানদার তাকে একি উত্তর দিলেন। এভাবে সাহাবী শেষপর্যন্ত ১২ দিরহাম দিয়ে জিনিসটা কিনলেন। তার সঙ্গী তাকে জিজ্ঞাসা করলেন যে, যে জিনিসটা ৫ দিরহামে কেনা যেত সেটা কেন আপনি ১২ দিরহাম দিয়ে কিনলেন? সাহাবী তাকে উত্তর দিলেন, আমি চিন্তা করে দেখলাম যে, আমি যদি জিনিসটার মালিক হতাম তাহলে ১২ দিরহাম দিয়ে বিক্রী করতে পারলে আমি খুশি হতাম, তাই আমি ১২ দিরহাম দিয়ে জিনিসটা কিনেছি।
একজন মুমিন হবে এরকম।
আমরা সবাই বেহেশতে যেতে চাই। অনেকে বেহেশতে যাবার জন্য এতই পাগল থাকে যে, যদি কারো কারনে তার নামাযের ব্যাঘাত ঘটে, তাহলে তাকে মারধোর করতে পর্যন্ত দ্বিধা করে না( বাংলাদেশের পত্রিকায় পেয়েছি)। আমি এখানে বলে রাখি, ততক্ষণ পর্যন্ত কারো ঈমান পরিপূর্ণ হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না সে চাবে যে, তার ভাই তার আগে বেহেশতে যাক। ঈমানের স্বাদ যে পেয়েছে তার কাছে পৃথিবীর সবকিছু অর্থহীন হয়ে পড়ে। এই পৃথিবীর লোভ-লালসা, অর্থ-সম্পদ, গাড়ি, বাড়ি দ্বারা সে আর আকৃষ্ট হয় না। নতুন কোন পণ্য বাজারে বের হলেই সে সেটাকে কেনার জন্য পাগল হয় না। লোক দেখানোর জন্য সে কোন কাজ করে না। অন্যেরা তাকে সম্মান করুক, তার প্রশংসা করুক, তার সিজদা করুক সেটাও সে চায় না। কে তার উপকারে আসবে আর কে তার উপকারে আসবে না এইসব আর তার মাথাব্যথার কারন না। তার ধ্যান-জ্ঞান থাকে শুধু আল্লাহ। একজন মুমিন ব্যক্তির চরিত্র হল অসাধারন যা আমরা বেশিরভাগ সময়ই চিন্তা করতে পারি না। আর মুমিন হবার জন্য দরকার কুরআনের জ্ঞান। তবে এ কথা বলছি না যে, কুরআন না পড়লে মুমিন হওয়া যাবে না। আমি এমন মানুষ দেখেছি যারা তাদের মত করে স্রষ্টাকে পাবার চেষ্টা করে যাচ্ছে। তবে যারা কুরআনের সন্ধান পেয়েছে, তারা যদি কুরআন থেকে জ্ঞান লাভ করতে না পারে, তাহলে সেটা হবে খুবি আফসোসের বিষয়। কুরআন তোতা পাখির মত আবৃতি করার জন্য না, এটা জ্ঞান লাভের জন্য। আসুন আমরা কুরআন পড়ি, নিজেদেরকে আল্লাহর পথে প্রতিষ্ঠিত করি।
Wednesday, March 19, 2008
বিশ্বাসের ভিত্তি
পরম দয়ালু ও অসীম করুনাময় আল্লাহর নামে শুরু করছি।
আমার এই লেখা হল তাদের জন্য যারা স্রষ্টার উপর নিজের বিশ্বাসকে দৃঢ় করতে চায়।
তথাকথিত কিছু দার্শনিকদের লেখা পড়ে সৃষ্টিকর্তার উপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলা মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এটা সত্যি যে, এই সব দার্শনিকদের যুক্তিগুলো শুনে একজন সাধারন মানুষের বিশ্বাসে ধাক্কা লাগাটা খুবি স্বাভাবিক। কারন বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তারা নিজেদের বিশ্বাস নিয়ে হয়তো খুব একটা চিন্তা করে না। তবে একটু ভালভাবে দার্শনিকদের দেয়া যুক্তিগুলো চিন্তা করলে বুঝা যায় যে, তাদের নিজেদের কোন উপসংহার নেই। তারা প্রায়ই বলে যে, আমরা সৃষ্টিকর্তাকে অনেক সম্ভাবনার একটি হিসেবে বিবেচনা করি। একটা বিষয়ে সবাই একমত হবে যে, আমরা প্রত্যেকে কি বিশ্বাস করি সেটা দ্বারা আমাদের কাজ ও আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রিত হয়। আমরা সবাই চাই সত্যকে জানতে। আমরা সন্দেহ চাই না, একটা সমাধান চাই। আমরা আমাদের জীবনকে সুন্দরভাবে পরিচালিত করতে চাই। আমাদের জন্য কোনটা ভাল আর কোনটা খারাপ সেটা আমরা জানতে চাই।
জটিল অনেক তত্ত্বের কথা আমরা অনেকেই জানি। কিন্তু এসব তত্ত্ব আসলেই অনেক জটিল এবং মূল জিনিসকে বাদ দিয়ে তার আশেপাশে ঘোরাফেরা করে। আমি এখানে খুব সাধারনভাবে কিছু মৌলিক ব্যাপার নিয়ে আলোচনা করতে চাই। আমাদের এমন একটি ভিত্তি দরকার যেটা খুবি শক্তিশালী এবং সেই সাথে খুবি সহজবোধ্য। সেজন্য আমি কুরআনের সূরা আত-তুর এর ৩৫ নম্বর আয়াত উল্লেখ করে কিছু আলোচনা করব। আয়াতটির একটি সম্ভাব্য বাংলা ও ইংরেজি অনুবাদ হচ্ছে নিম্নরূপ।
"তারা কি শূণ্য থেকে সৃষ্ট হয়েছে? নাকি তারা নিজেরাই স্রষ্টা?" (৫২:৩৫)
"Were they created out of nothing? or they themselves are the creators?" (52:35)
উপরের আয়াতটিকে মনে হতে পারে খুব সাধারন কিন্তু আমার কাছে এটি খুব শক্তিশালী একটি আয়াত। এর মধ্যে অনেক কিছু চিন্তা করার আছে। উপরের আয়াত থেকে বললে, এই মহাবিশ্ব, পৃথিবী এবং আমাদের আশেপাশে যা কিছু আছে, তার সৃষ্টির ব্যাখ্যা হিসেবে সম্ভাব্য ৩টি তত্ত্ব আছে। সেগুলো হল নিম্নরূপ।
১। সবকিছু শূণ্য থেকে সৃষ্টি হয়েছে। অর্থাৎ এ মহাবিশ্বের সৃষ্টির আগে কিছু ছিল না। একেবারে তাত্ত্বিকভাবে শূণ্য বলতে যা বুঝায়। সেই শূণ্য থেকে যেভাবেই হোক সমস্ত পদার্থ এবং শক্তির সৃষ্টির হল এবং সেখান থেকে ধীরে ধীরে নিজে নিজেই আজকের এই অবস্থায় আসল।
২। আমরা মানুষরাই হল স্রষ্টা। আমরা সবাই হল সৃষ্টিকর্তার একটি অংশ। আমরা সবাই মিলে একজন সৃষ্টিকর্তা। কাজেই সৃষ্টি বলে কোন কথা নেই।
৩। উপরের দুইটি সম্ভাবনার বাইরে যে সম্ভাবনা থাকতে পারে সেটি হল একজন অসীম সৃষ্টিকর্তা আমরা যা দেখি এবং যা দেখি না তার সবকিছুকে সৃষ্টি করেছেন। এই সম্ভাবনার কথা ওই আয়াতটিতে নেই। কুরআন এটির কথা বলে নি, কারন কুরআনের মতে এটিই হচ্ছে উত্তর যেটির প্রতি আমাদের সমস্ত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, চিন্তা-ভাবনা ইত্যাদি বিষয়গুলো ধাবিত করবে।
এখন এই ৩ ধরনের সম্ভাবনা সম্পর্কে একটু গভীরভাবে চিন্তা করি এবং দেখি যে এর একেকটিতে বিশ্বাস আমাদের আচার-আচরনকে কোন দিকে ধাবিত করে এবং একি সাথে এগুলোর উপর বিশ্বাস স্থাপনের ভিত্তিস্বরূপ কোন কোন উপাদান আমাদের সামনে আছে।
সৃষ্টির আদিতে কোন কিছু ছিল না। হঠাৎ করে সবকিছু সৃষ্টি হল। তারপর দৈবক্রমে একটি একটি করে জটিল ও চমৎকার সব জিনিস তৈরি হতে থাকে। এটিকে মেনে নেয়া আমার জন্য বেশ কষ্টকর। কারন, এখন পর্যন্ত কেউই এটিকে ব্যাখ্যা করতে পারে নি। এমনকি বিজ্ঞানীরাও এটা মেনে নেয় যে, এটা ব্যাখ্যা করা যায় না। তারা যা করে তা হল, প্রথমে ধরে নেয় যে যেকোন ভাবেই হোক শক্তি ও পদার্থের সৃষ্টি হয়েছে এবং তখন থেকেই এসব পদার্থগুলোর মধ্যে বিরাজমান পদার্থবিজ্ঞানের সূত্রগুলো কাজ করা শুরু করে। সৃষ্টির রহস্যকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এ পর্যন্ত মানুষ যে সমস্ত তত্ত্ব বের করেছে, সেটা ডারউইন এর তত্ত্বই হোক আর অন্য যেকোন তত্ত্বই হোক, তার সবগুলোই সৃষ্টির প্রথম এর ধাপকে উপেক্ষা করে। কিন্তু এটা কি এত সহজে উপেক্ষা করার মত একটা ব্যাপার? আমরা কোথা থেকে এসেছি এ প্রশ্নের উত্তর অজানাই রয়ে যাচ্ছে। এখন দেখা যাক এর মহাবিশ্ব আস্তে আস্তে কোন পথে এগুচ্ছে। আমরা সবাই জানি যে, এই মহাবিশ্ব প্রতিনিয়ত সম্প্রসারিত হচ্ছে। এবং খুবি আশ্বর্যজনকভাবে এই সম্প্রসারনের হার প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এখন অনেক বিজ্ঞানীরাই বলে যে, এই মহাবিশ্ব একটা সময়ের পর ধ্বংস হয়ে যাবে। কিভাবে ধ্বংস হবে এটা এখন পদার্থবিজ্ঞানীদের অন্যতম একটি গবেষণার বিষয়। যাই হোক, আমি একজন পদার্থবিজ্ঞানী না এবং বিজ্ঞানকে আমি দেখি সৃষ্টির পর্যবেক্ষণ হিসেবে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায় যে, আমার মৃত্যুর পর কি হবে, এই মহাবিশ্বের ধ্বংসের পর কি হবে? ধরে নেই, এই আমার মৃত্যুর পর আমি বলে কিছু আর থাকবে না। এই মহাবিশ্বের ধ্বংসের পর কি হবে তাও জানি না। যদিও সেটা একটা বড় প্রশ্ন। এখন দেখা যাক, এই তত্ত্বে বিশ্বাস আমাদের কাজকর্মকে কোন দিকে ধাবিত করে।
প্রথম এই সম্ভাবনায় বিশ্বাস করার মানে হল এই যে, আমি এমনি এমনি এসেছি এবং আমার মৃত্যুর পর আর কোন কিছু নেই। কাজেই পৃথিবীর এই জীবনটাই সব। যেভাবে পারি, আমাকে এই জীবনকে ভোগ করতে হবে। যেভাবে পারি, আমার নিজেকে সন্তুষ্ট করতে হবে। তাহলে সত্যি করে বললে, নীতি বলে কোন কিছু আর থাকে না। সুযোগ পেলেই আমি আমার চাহিদাকে পূরণ করার চেষ্টা করব। আমার কাজ অন্যের উপর কি প্রভাব ফেলল সেটা আর গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার না। আমার আর পশুর মধ্যে কোন পার্থক্য থাকে না। আমাদের জীবন হবে অনেকটা এরকম যে, কোন একটা কিছুর পিছনে ধাওয়া করা, সেটা যখন পাব তখন আমরা সুখী, যখন পাব না তখন আমরা দু:খী। অভীষ্ট বস্তুকে আমরা যখন পাব, তখন সাময়িক একটু সুখ উপভোগ করব। কিন্তু তারপরই জীবনটা অর্থহীন হয়ে যাবে। তখন জীবন যাপন করার জন্য আমাদের নতুন আরেকটা লক্ষ্যের দিকে ছুটতে হবে। সত্যিকারের শান্তি বা সুখ এর মাধ্যমে পাওয়া যাবে এটা বিশ্বাস করা কঠিন। অন্তত আমার নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা এবং আশেপাশের মানুষের জীবন পর্যবেক্ষণ করে এই সিদ্ধান্তে আসাটা খুবই স্বাভাবিক। সবচেয়ে বড় যে হতাশা কাজ করে তা হল, আমি মারা গেলেই তো শেষ। কাজেই মৃত্যুর ভয় সবসময় বিরাজ করে। আর ভুলে গেলে চলবে না, আমার এই বিশ্বাসের পিছনে কোন ভিত্তি নেই। অনেক কিছু আমাদের অন্ধভাবে মেনে নিতে হয়। আর বিশেষ করে যখন আমার নিজের শরীরের দিকে তাকাই, একজন ছেলে-মেয়ের মধ্যকার আকর্ষণবোধ, বিভিন্ন সৃষ্টির কর্মকান্ড ইত্যাদি ব্যাপারগুলো যখন দেখি তখন এটা ভাবতে খুবি কষ্টকর যে, আমরা এমনি এমনি কোন কারন ছাড়া এসেছি এবং আমার জীবনের কোন লক্ষ্য নেই। তারপরও আমরা তা ভাবতে চাই। আর বাস্তবতা হল এই যে, আমরা অনেকেই এই তত্ত্বে বিশ্বাস করি। কেউ তা স্বীকার করে, কেউ তা করে না। যে কারনে আমরা অনর্থক বিভিন্ন পার্থিব বস্তুর পিছনে ছুটতে থাকি।
দ্বিতীয় যে সম্ভাবনা আমাদের সামনে আছে তা হল, আমরাই স্রষ্টা। এটাকেও মেনে নেয়া কষ্টকর। কারন আমি জানি যে, আমি স্রষ্টা না। আমি যদি স্রষ্টা হতাম তাহলে আমি আমার মত করে সবকিছু করতাম। কিন্তু বাস্তবতা হল আমার কোন ক্ষমতাই নেই। আমি খুব দূর্বল একটি জীব। পৃথিবীতে এখনও কিছু মানুষ আছে যারা এই তত্ত্বে বিশ্বাস করে। কিন্তু আমি এটাকে মেনে নিতে পারি না। আমিই স্রষ্টা? না, এটা অসম্ভব। আমি আমার নিজেকে সৃষ্টি করি নি। আর এ বিশ্বাস আমাদেরকে কিভাবে প্রভাবিত করে সেটা আমার পক্ষে বলা একটু অসম্ভব। কারন এভাবে আমি কখনও চিন্তা করে দেখি নি আর চিন্তা করতে পারব বলেও মনে হয় না।
তৃতীয় এবং সর্বশেষ যে সম্ভাবনা আমাদের সামনে আছে তা হল, একজন অসীম স্রষ্টা এই মহাবিশ্বের সবকিছুকে সৃষ্টি করেছেন। এখানে অসীম হল খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। কারন, স্রষ্টাকে সসীম চিন্তা করলেই আমাদের আবার প্রথম সম্ভাবনার ভিতর ঘুরপাক খেতে হয়। স্রষ্টাকে হতে হবে অসীম এবং আমাদের এই সৃষ্টিজগৎ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এখন এ সম্ভাবনাকে মেনে নেয়া যায় কিনা? প্রথম দুটো সম্ভাবনাকে প্রত্যাখ্যান করলে, এটি ছাড়া আর কোন সম্ভাবনা আসলে আমাদের সামনে নেই। কিন্তু এখন প্রশ্ন হল এটির উপর বিশ্বাস করার মত কোন উপকরন আমাদের কাছে আছে কিনা? আমার নিজের এবং অনেকের জন্য যথেষ্ঠ পরিমান উপকরন আছে। এই সৃষ্টিজগতের প্রতিটা সৃষ্টিই হল এই বিশ্বাসের ভিত্তি। কেন? কারন এই মহাবিশ্বের কোন উপাদানই নিজেকে সৃষ্টি করে নি। সে নিজে যেহেতু একটি সৃষ্টি কাজেই সে নিজেই হচ্ছে স্রষ্টার প্রমাণ। এখন দেখা যাক স্রষ্টার উপর বিশ্বাস আমাদের জীবনে কি প্রভাব ফেলতে পারে। স্রষ্টায় বিশ্বাস মানে এর সাথে আরো বেশ কিছু বিষয় চলে আসা। সেগুলো হল স্রষ্টা কেন এই মহাবিশ্ব এবং আমাদের সৃষ্টি করলেন? আমার মৃত্যুর পর কি হবে? এ ধরনের আরো কিছু প্রশ্নের উত্তর জানার চেষ্টা করা এবং তা করতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের মতাভেদ তৈরি হওয়া। বর্তমানে এটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় সমস্যা। সব ধর্মই বলছে যে, স্রষ্টা আছে এবং তাদের পথই হচ্ছে সঠিক। তবে একটা ব্যাপার পরিষ্কার যে, স্রষ্টার উপর কারো দৃঢ় বিশ্বাস থাকলে সে অনেক ধরনের হতাশা থেকে মুক্ত হতে পারবে। কাজেই সমস্যা হচ্ছে আমরা স্রষ্টাকে কিভাবে জানব তা নিয়ে। কোন ধর্ম সঠিক বা কোন সমাজের চিন্তাভাবনা সঠিক সেটা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা আমার এই লেখার উদ্দেশ্য না। আমি এখানে আমার বেছে নেয়া পথকে উপস্থাপন করতে চাই।
একজন মানুষ যখন অবিশ্বাসী হয়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সে কোন কিছু প্রমাণ করে অবিশ্বাসী হয় না। সে অবিশ্বাসী হয় শুধুমাত্র এই কারনে যে, সে অনেক কিছু বুঝতে পারে না বলে। কেন পৃথিবীতে মারামারি-কাটাকাটি আছে? কেন এত কষ্ট? কেন বেহেশত ও দোযখ? কেন স্রষ্টাকে দেখি না? আবার অনেকে বিভিন্ন ধর্মের মানুষদের কাজকর্ম এবং তাদের মধ্যে বিরাজমান হিংসা-বিদ্বেষ দেখে এই সিদ্ধান্তে আসে যে, ধর্মই সমস্ত হানাহানির কারন। আবার বিভিন্ন মানুষ বা ধর্ম স্রষ্টাকে বিভিন্নরকম ভাবে উপস্থাপন করে। কাজেই কোনটা সত্য? আবার অনেকে স্রষ্টা দেখতে কিরকম, সে কিভাবে কাজ করে, এসব বিষয়ে চিন্তা করতে গিয়ে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। যাই হোক, স্রষ্টা সম্পর্কে মানুষের বিভিন্ন ভূল ধারনাই হল আমাদের মধ্যকার হতাশা এবং সন্দেহের কারন। কোন কিছুর উপর অন্ধ বিশ্বাস বা জ্ঞানের অভাব অনেককে অনেক কিছুতে উদ্বুদ্ধ করতে পারে। কাজেই আমাদের সমাজে বা বিভিন্ন সমাজে স্রষ্টা সম্পর্কে যে সমস্ত ধারনা আছে সেগুলোকে অন্ধভাবে গ্রহণ করাকে আমাদের ত্যাগ করতে হবে। অনেক সময় বিভিন্ন সমাজ বা ধর্ম স্রষ্টাকে এমনভাবে উপস্থাপন করে যে, একজনের কাছে এই সিদ্ধান্তে আসা অস্বাভাবিক না যে, এরকম স্রষ্টাকে বিশ্বাস করার চেয়ে স্রষ্টাকে বিশ্বাস না করাই ভাল। আমরা সবাই কিন্তু কোন না কোন ভাবে অন্ধ বিশ্বাস এবং অজ্ঞতা থেকে অনেক কিছু করি এবং সারাজীবন করে যেতে থাকি। কখনও কখনও আমাদের মধ্যে এই প্রশ্ন ঠিকই আসে যে, আমি যা করছি তা কি ঠিক কিনা বা যা বিশ্বাস করছি তার কি কোন ভিত্তি আছে? কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই মানুষ হাল ছেড়ে দেয় এই ভেবে যে, এত চিন্তা করে কি হবে। কাজেই অন্য একজন কি করল সেটা থেকে কোন সিদ্ধান্তে আসাটা আমার কাছে খুব একটা বুদ্ধিমানের কাজ মনে হয় না।
আমাদের যেটা করা উচিত সেটা হল নিজেকে এভাবে কল্পনা করা যে, আমি এক সৃষ্টি সমস্ত সৃষ্টির মাঝখানে। আমার কাছে সব জ্ঞান আছে এটা যেমন ভুল, সমস্ত মানুষের কাছে সব জ্ঞান আছে সেটাও তেমন ভুল, এ ব্যাপারটাকে উপলব্ধি করা। আমি বলব যে আমি কোন কিছুকে অন্ধবিশ্বাস করি না, অথচ কোন মানুষের দেয়া তত্ত্বকে বা তথ্যকে অন্ধভাবে আকড়ে ধরে রাখব - এটাও ঠিক না। সত্যকে খোজার এক ভ্রমণ আমাকে শুরু করতে হবে। আমাকে মানুষের কাছ থেকে শিখতে হবে। প্রত্যেক মানুষের কাছেই শেখার কোন না কিছু আছে। আমাকে প্রতিটা সৃষ্টির কাছ থেকে শিখতে হবে। চিন্তা করতে হবে। মানুষের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। কাজেই আসুন আমরা জ্ঞান অর্জনের ভ্রমণ শুরু করি। যারা মুসলিম তাদেরকে আমি অনুরোধ করব যে, আসুন কুরআনকে পড়ি, জানি, চিন্তা করি। কুরআন হচ্ছে আমাদের কাছে পাঠানো স্রষ্টার বার্তা। কুরআনকে আমাদের জীবনের অবলম্বন করি। জ্ঞানার্জন করে আল্লাহ আমাদেরকে যে সুযোগ দিয়েছেন সেটাকে কাজে লাগাই। আর যারা মুসলিম না, তাদের প্রতি আমার অনুরোধ স্রষ্টা বা সৃষ্টিকে জানার জন্য মানুষের লিখা বিভিন্ন বই এর পাশাপাশি কুরআনকেও জ্ঞানের একটি উৎস্য হিসেবে বিবেচনা করুন। কুরআনকে বিশ্বাস করতে হবে এমন কোন কথা নেই। তবে আমি চ্যালেন্জ করে বলতে পারি যে, একজনের মন ও জীবনকে পরিবর্তন করার ক্ষমতা বর্তমানে একমাত্র কুরআনের আছে। আমরা সবাই যে বিষয়ে নিশ্চিত হতে চাচ্ছি তা আপনি কুরআনে পেয়েও যেতে পারেন। আসুন আমরা অজ্ঞতার শৃঙ্খল থেকে নিজে মুক্ত হই এবং অন্যকে মুক্ত করি। অযথা সময় নষ্ট না করে জ্ঞান নিয়ে আলোচনা করি।
Subscribe to:
Posts (Atom)